অনন্যা
হাজার মেয়ের ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন
অতনু সরকার
প্রতিদিনের মতো ব্যস্ততম বিমানবন্দর. কলকাতা বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট উড়ে যাবে মালয়েশিয়া. আর সেই সঙ্গে উড়বে একটি স্বপ্ন। ভোরের আকাশে তখনো রক্তমাভ সূর্যের দেখা মেলেনি। কিন্তু আকাশ আবির রঙে ছেয়ে গেছে।হয়তো আর একটু পরে সূর্যের দেখা মিলবে।
আজকের দিন টা অনন্যার কাছে অন্যরকম একটা দিন। আজ অনন্যার স্বপ্নটা যখন বাস্তবে পরিণত হল তখন মনের মধ্যে একটা উত্তেজনা, আনন্দ আর সেইসঙ্গে চাপা একটা ভয় রয়েছে। এই প্রথম সে উড়ান দেবে দেশে নয় বিদেশের মাটিতে। খেলতে যাচ্ছে এএফসি চ্যাম্পিয়নশিপ, কিন্তু আজকের এই সকাল টার পিছনে তার যে মেহনত তার যে কষ্ট সেটা যদি না দেখি তাহলে হয়তো সবটাই অধরা থেকে যাবে। অধরা থেকে যাবে একটা মেয়ের জীবন যুদ্ধের এক অসম তীব্র লড়াই। আর সেই লড়াই হয়তো হাজার হাজার মেয়ের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। অনন্যার সেই লড়াইকে তুলে ধরতে হবে হাজার হাজার মেয়ের সামনে। তবেই হবে তার সার্থকতা। অনন্যা হয়তো বিমানবন্দরের ওয়েটিং রুমে বসে তার ফেলে আসা ছোটবেলার কথাই ভাবছিল। যখন তাকে প্রতি মুহূর্তে লড়াই করতে হয়েছে একটা অসম জীবন যুদ্ধে। যেখানে ছেলেদের আধিপত্য ভেঙে দিয়ে ছেলেদের সঙ্গেই লড়াই করে নিজেকে প্রস্তুত করে আজকের পর্যায়ে তুলে আনার এক অদম্য ইতিহাস।
দূরে একটা পর একটা বিমান উড়ে যাচ্ছে। অনন্যা সেই দিকে তাকিয়ে ভাবছিল তার শুরুর দিনগুলোর কথা।
বাংলার সুদুর প্রত্যন্ত গ্রাম, নাম ধানসিঁড়ি। চাষাবাদ এখানকার জীবিকা। এই অজপাড়া গায়ে বড় একটা খেলার মাঠ রয়েছে। মানুষ খেলা পাগল। তারা যেমন কাজকে ভালোবাসে তেমনি ভালোবাসে খেলা। গ্রামের মানুষের কাছে খেলা বলতে ফুটবল, কবাডি আর অন্যান্য গ্রামীণ খেলা তো রয়েছে। খুব স্বাভাবিকভাবে ফুটবল জনপ্রিয়তা পেয়েছে এই গ্রামে। তা বিকেলে মাঠে গেলেই দেখা যায়। যারা মাঠে জায়গা পায় না তারা আবার ধান কাটার পরে ধান ক্ষেতে বল নিয়ে নেমে পড়ে। তবে মূল মাঠটা রয়েছে ধানসিঁড়ি গ্রামে ধানসিঁড়ি হাই স্কুল মাঠ। সেখানে প্রতিদিন খেলা চলে। প্রশিক্ষক বলতে তেমন কেউ নেই। কিন্তু খেলা প্রতিদিন হয়। আর সেখানে ভিড় জমায় গ্রামের মানুষরাও। মাঠের এক প্রান্তে রয়েছে বড় একটা বটগাছ। সেই বট গাছের তলায় রয়েছে দুটি চায়ের দোকান। সেখানে ভিড় জমায় গ্রামের মানুষ। বিকেল হলে গ্রামের চাষী, সাধারণ মানুষ আড্ডা দিতে আসে মাঠের ধারে । আর বসে বসে গ্রামের ছেলেদের খেলা উপভোগ করে। ছোট ছোট ছেলেদের ভিড়ে মিশে যায় অনন্যা। প্রথমে সে বুঝতে পারে ছেলেদের ভিড়ে টিকে থাকতে গেলে তাকেও ছেলেদের মতই লড়াই করতে হবে। ছোটবেলা থেকেই এটা তার মনে বদ্ধমূল ধারণা হয়ে জন্ম নেয়।
বাড়ির লোক প্রথমে কিছু বলত না। ছোট মানুষ খেলতে যায় ছোটদের সঙ্গে খেলে তাই বাড়ির লোকে কোন আপত্তি ছিল না। কিন্তু সেই খেলা যে তার জীবনের লক্ষ্যকে ঘুরিয়ে দেবে সে কথা কি বাড়ির লোক জানত, নাকি জানত তার পাড়ার লোক? এই পাড়ার নাম যে একদিন অনন্যার সঙ্গে সঙ্গে সারা বাংলায় উচ্চারিত হবে তা কি এই ছোট্ট গ্রামের মানুষ কখনো কল্পনা করেছিল? বরঞ্চ তারা অনন্যার বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার বাড়ির লোককে বলেছিল মেয়ে মানুষ মাঠে না পাঠানোই ভালো।
ধানসিঁড়ি ফুটবল ক্লাব একটা ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে ছোটদের নিয়ে। আশেপাশের গ্রাম থেকে যেমন দল আসবে তেমনি দূরের কয়েকটা গ্রাম থেকেও ফুটবলের দল নাম দিয়েছে এখানে খেলার জন্য।
আজ রবিবার। সকাল থেকেই সাজো সাজো রব ধানসিঁড়ি হাই স্কুল মাঠে। ধানসিড়ির মানুষ যে ফুটবল পাগল তা রবিবার আসলেই বোঝা যাবে। সম্পাদক তরুণ মন্ডল সকাল থেকেই ব্যস্ত তার দলবল নিয়ে।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একটা একটা করে দল আসতে শুরু করেছে। প্রথম খেলা ধানসিঁড়ি ফুটবল ক্লাব এবং নবারুণ ফুটবল ক্লাবের। ছোটদের যেহেতু খেলা তাই বয়সের প্রমাণপত্র নাম এইসব দেখে মিলিয়ে নিতে হবে। তার জন্য একটা দল রয়েছে। তারাই এইসব করবে, তার নেতৃত্বে রয়েছে সুবিমল। সুবিমল যখন ধানসিঁড়ি ফুটবলারদের নাম মিলিয়ে খেলোয়ারদের তালিকা তৈরি করছিল সেই সময় সে দেখল অনন্যা মন্ডলের নাম। অনন্যা ছেলেদের সঙ্গেই খেলবে আজ। তার চুল ছেলেদের মতো করে কাটা। শুধু এই খেলার জন্যই সে গতকাল চুল কেটে ফেলেছে।
সুবিমল জিজ্ঞাসা করল - পারবি তো তুই?
অনন্যা - পারব কাকা। আমাকে একটু খেলার সুজোগ করে দাও। দেখ আমি গোল করব।
সুবিমল সম্পাদক তরুন মণ্ডলের সঙ্গে কথা বলে অনন্যার নাম রেখে দিল। ওর দলের ছেলেরা সবাই চাইছিল অনন্যা খেলুক। সকলের অনুরোধে শেষ পর্যন্ত অনন্যা কে রাখা হলো মূল দলে।
দেখতে দেখতে মাঠে প্রচুর লোকের সমাগম হলো। খেলা পাগল গ্রামের মানুষ জড়ো হল ধানসিঁড়ি হাই স্কুলের মাঠে। প্রথম খেলায় ধানসিঁড়ি ফুটবল ক্লাব জয় লাভ করল ৩-০ গোলে এবং তিনটে গোলের মধ্যে দুটো গোল অনন্যা করল। বিপক্ষ দলের কোচ এবং খেলোয়াড়রা অনন্যর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল যে একটা মেয়ে হয়ে কি করে খেলতে পারে ছেলেদের দলে। তখন প্রধান অতিথি স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রধান উপস্থিত ছিলেন তিনি ব্যাপারটিকে সহজে বুঝিয়ে দিলেন, নারী পুরুষের সমান অধিকার এবং এই ছোট বয়সে সেখানে কোন প্রভেদ থাকা উচিত নয়। তাই বয়স ভিত্তিক খেলা গুলোতে ছেলেমেয়েরা একসঙ্গে খেলতে পারে। এ বিষয়ে সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থাও একমত। তাই অনন্যার এই বয়স ভিত্তিক খেলায় ছেলেদের দলে অন্তর্ভুক্তিতে কোন বাধা থাকবে না। বাধ্য হয়ে প্রধান শিক্ষকের কথা মেনে নিলেন সকলে। এই মেনে নেওয়াই হয়তো একটা সন্ধিক্ষণ হয়ে দাঁড়ালো নারী ফুটবলে। ধানসিঁড়ি ফুটবল ক্লাবের অবনী মন্ডল যে এই ছোটদের দেখভাল করে তারই অধীনে এই দলটি খেলছে। অবনী পাড়ারই ছেলে, খেলাধুলা ভালোবাসে। সে গৃহ শিক্ষক, তার পাশাপাশি সে এই ফুটবল পাগল ছেলে মেয়েদের জন্য সময় দেয়। তাদের খেলার ব্যবস্থা করে দেয়। কোনো না কোনো গ্রামে এই ধরনের লোকেরা আছে বলেই গ্রামগঞ্জে ফুটবল টিকে আছে আপন মহিমায়। অনন্যা অবনীর কথা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলে। কারণ অবনী কথা দিয়েছে, তাকে সে খেলোয়াড় করে ছাড়বে। যদি তার অধ্যাবসায় আর নিয়মিত অনুশীলন থাকে।
যাই হোক দর্শকরা দেখল ছেলেদের সঙ্গে এক অসম লড়াইয়ে তাদেরই গ্রামের মেয়ে অনন্যার দুরন্ত ফুটবল। এই বয়সে তার এই ফুটবল সাধারণ মানুষের চোখে দারুন লাগলো। গ্রামগঞ্জে মুলতে একদিনের টুর্নামেন্ট হয়। ধানসিঁড়ি কিন্তু ফিয়ানালে পৌঁছে গেল। আর এই ফাইনালে পৌঁছানোর আগে পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় অস্বাভাবিক ভাবে অনন্যার নাম। দ্বিতীয় স্থানে যে রয়েছে তার থেকে চারটে গোল বেশি তার। বেলা চারটের সময় যখন ফাইনাল খেলা শুরু হবে ঠিক সেই মুহূর্তে দেখা গেল মাঠের একটা ধারে জড় হয়েছে বহু মহিলা। গ্রামের মেয়েরা অনন্যার খেলা দেখবে বলে এসেছে। ইতিমধ্যেই মুখে মুখে প্রচারিত হয়ে গেছে ছেলেদের সঙ্গে অনন্যার এক অসম লড়াই, তার জেদ আর দুরন্ত গোলের কথা। তাই ফাইনালের আগে গ্রামের আট থেকে আশি পর্যন্ত সবাই এসে জড়ো হয়েছে মাঠে। তাদের জন্য একটা দিক ফাঁকা করে দিতে হলো। সংখ্যাটা কম নয়, অনেক।
সেদিন ফাইনালে দুরন্ত ফুটবল খেলে ধানসিঁড়ি ফুটবল ক্লাবকে বিজয়ীর সম্মান এনে দিয়েছিল এই অনন্যা। তারই গোলে জয়লাভ করে তার দল, তার গ্রাম। খেলার পর গ্রামের মহিলারা ছুটে আসে তার কাছে। তাকে জড়িয়ে ধরে ভালোবাসা জানায়। সেই তার জীবনের এক দুরন্ত দিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে দিল। যদিও তারপর বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাড়ার অনেক কাকিমা,মাসিমারা অনন্যার মায়ের কান ভাঙিয়ে তাকে মাঠে যাতে দিতে বারণ করতে বলেছিল। কিন্তু অনন্যার মা চেয়েছিল তার মেয়ের স্বপ্ন পূরণ হোক। অনন্যার বাবা দাঁড়িয়ে ছিল তার পাশে। অনন্যার দাদা দাঁড়িয়ে ছিল তার পাশে যাতে তার স্বপ্ন পূরণ হয়। পরিবারের সকলের সাহায্যে তার উত্থান ঘটতে থাকে। অবনী বাবু বুঝতে পারে এই মেয়েই একদিন এই পাড়ার নাম উজ্জ্বল করবে তাই তাকে নিয়ে ছুটতে থাকে দূরে। কোথায় মেয়েদের ফুটবল খেলার জায়গা আছে, কোথায় কোন ক্লাবে শুধু মেয়েরাই ফুটবল প্র্যাকটিস করে সেখানে যোগাযোগ করল। সেখান থেকে কলকাতার ক্লাব। প্রথমে ছোট ক্লাব তারপর কন্যাশ্রী কাপ। তারপর সর্বভারতীয় স্তরে তার উল্কার মতন উত্থান।
রাত তিনটের সময় উঠে অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে আসতে হয়েছে স্টেশনে। অনেক ভোরের ট্রেন ধরে যেতে হয়েছে কলকাতায়। মাঝে দুটো ট্রেনের পরিবর্তন। তারপর প্র্যাকটিস করে কোন রকমে দুটো নাকে মুখে গুঁজে আবার ফেরার পালা। ফিরতে ফিরতে হয়তো কখনো সন্ধ্যা হয়ে গেছে। তারপর আবার পরের দিন সকালে জেতে হয়েছে। এইভাবে দিন কেটেছে তার। আর এরই মধ্যে ছিল তার স্কুল আর পড়াশোনা। কোনদিন হয়তো সকালবেলায় না খেয়েই ট্রেন ধরতে হয়েছে। রাত তিনটের সময় তার জন্য রান্না করে দেবে কে। তবুও তার মা রাতে টিফিন তৈরি করে রাখত। তিনটের সময় উঠে ভোরের ট্রেন ধরে তাকে পৌঁছাতে হতো কলকাতায়। তারপর সকালের প্র্যাকটিস শেষে আবার ট্রেন পাল্টে পাল্টে বাড়ি ফিরতে হয়ে যেত বিকেল। ফেরার সময় কোনোদিন খাবার জুটত কোনদিন খাবার জুটত না। প্র্যাকটিসের পর এক পেট খিদে নিয়ে বাড়ি ফিরতে হতো। হাতে খুব কম টাকা থাকতো। তাই দিয়ে হয়তো ট্রেনের ঝালমুড়ি না হয় একটা কেক।
ট্রেনে বাসে চলার পথে নানা রকম কটুক্তি আর ধাক্কাধাক্কির শিকার যে হতে হয়নি তা নয়। কিন্তু সে শুধু স্বপ্নটাকে তাড়া করে গেছে। তার ইচ্ছাটাকে পূরণ করার জন্য অদম্য লড়াইটাকে সে তাড়া করেছে। পিছনে ফেলে দিয়েছে জীবনের যত দুঃখ, যন্ত্রণা যত গ্লানি। পিছনে ফেলেছে যত কটুক্তি পাড়া-প্রতিবেশীর হিংসা সবকিছুকে। সব কিছু পেছনে ফেলে সে যখন সর্বভারতীয় স্তরে ভারতের একটা নামি ক্লাবের হয়ে খেলছে তখন পাড়ার সকলেই তার নামে জয় ধ্বনি দিল। আর আজ সে এএফসি চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে যাবে ভারতীয় দলের হয়ে। এই অনন্যা মন্ডলের জন্যই ধানসিঁড়ি গ্রামের নাম এখন সারা বাংলায় ছড়িয়ে পড়েছে। এর থেকে গৌরব আর পাড়ার মানুষের কাছে কি হতে পারে?
যারা একদিন তাকে কটুক্তি করেছিল পাড়ার মা-মাসিরা বা বয়স্করা তারা সেদিন তাকে বরণ করার জন্য রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ছিল।যখন সে প্রথম ভারতীয় দলে সুযোগ পেল তারপর বাড়ি ফিরল সেদিন পাড়ার মহিলারা জড়ো হয়েছিল গ্রামে ঢোকার রাস্তর মোড়ে, ফুল মালা নিয়ে তাকে বরণ করার জন্য।
এ গ্রামের এই প্রথম কেউ এই দুর্লভ সম্মান এর অধিকারী অনন্যা।সে একজন মেয়ে। এই মেয়ের জন্য এই গ্রামের নাম এখন ভারতব্যাপী ছড়িয়ে গেছে। এই গ্রামের মেয়েই ফুটবলের ফুল ফোটাচ্ছে মাঠে মাঠে। এখনই সে যেন এক অনুপ্রেরণা, তাকে দেখে ছুটে আসে খেলার মাঠে অনেক মেয়েরা। সেই সব ছোট ছোট মেয়েদের মায়েরাও এখন আর কটুক্তি করে না। তারা তাদের মেয়েদের নিয়ে আসে মাঠে। আর একটা অনন্যা মণ্ডল তৈরি করার জন্য। এটাই কি তার সার্থকতা নয়?
ক্লান্ত মেয়ে যখন বাড়ি ফিরতো তখন তার জন্য খাবার সাজিয়ে বসে থাকতো মা। স্টেশন থেকে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসার জন্য বসে থাকত অবনি মাস্টার, গ্রামের গৃহ শিক্ষক এবং ছেলেদের মেয়েদের ফুটবলের অভিভাবক। এইরকম অবনী মন্ডলের মতন মাস্টার বা কোচ আছে বলেই বহু গ্রামে গঞ্জে আজো ফুটবল টিকে আছে।
অবনী অনন্যা কে নিয়ে কোথায় না কোথায় গেছে। তার কারণ অনন্যার বাবা মার পক্ষে সেখানে যাওয়া সম্ভব হতো না। গ্রামের মানুষ চাষাবাদ করে তাদের জীবন চলে। অনন্যার দাদাও তখন ছোট তাই তাদের পক্ষে অনন্যাকে নিয়ে কলকাতায় যাওয়া বা যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার সম্ভব হতো না।
আজ বিমানবন্দরে যখন অনন্যা এলো তখন তার সঙ্গে ছিল অবনি মন্ডল তার প্রথম ফুটবল প্রশিক্ষক তার গৃহ শিক্ষক। অবনি অনন্যা কে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিয়ে বলেছিল দেশের সম্মান তোকে রক্ষা করতে হবে। সে ফিরে চলে আসে নিজের কাজে। নিজের ঠিকানায়। অনন্যা সেখানে বসে বাইরের দিকে তাকিয়ে দেখতে থাকে একটার পর একটা বিমান উড়ে চলেছে। স্বপ্নে বিভোর অনন্যা ভাবতে থাকে মালয়েশিয়ার একটা মাঠ। সবুজ চাদরে বিছানো। হাজার হাজার দর্শক ঘিরে রেখেছে সেই মাঠ। খেলা চলছে তুলল মূল্য সেই লড়াই। আক্রমণ প্রতি আক্রমণে খেলা চলছে।খেলার ত্রিশতম মিনিটে অনন্যা গোল করলো মাঝখান থেকে একটা ডিফেন্স চেরা বল অনন্যার পায়ে পড়তে সে যেন হরিণীর মতন দৌড় শুরু করল। সেই বল ধরে দুজনকে হেলায় হারিয়ে বলটা অসাধারণ ভাবে জালে পাঠিয়ে দিল। গোটা মাঠ চুপ। শুধু ভারতীয়দের চিৎকার।
হঠাৎ অনন্যার বন্ধবী মনীষা তার ঘাড়ে হাত রাখল। বলল - কিরে চল ফ্লাইটের সময় হয়ে গেছে।
অনন্যা স্বপ্নের জগৎ থেকে ফিরে এলো বাস্তবে।
মনীষা বলল- কিরে কি ভাবছিলি?
অনন্যা বলল- কিছু না। দেখছিলাম কিভাবে ফ্লাইট উড়ে যাচ্ছে তাই।
মনীষা - চল ওরা এগিয়ে গেছে। আমাদের ফ্লাইটের সময় হয়ে গেছে।
অনন্যা মনীষার সঙ্গে হাঁটতে থাকে ফ্লাইটের জন্য।
সাতটা কুড়ির ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি উড়ে গেল একরাশ স্বপ্ন নিয়ে মালয়েশিয়ার দিকে। শুধু অনন্যাস স্বপ্ন নয়, অনন্যার মতন হাজার হাজার মেয়ের স্বপ্ন নিয়ে ফালিটটা উড়ল আকাশে।
